ওমর ফারুক, মাধবপুর থেকে ঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমূহনী খুরশিদ স্কুল এন্ড কলেজের এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনার জের ধরে গতকাল মঙ্গলাবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষে মধ্যস্থতাকারী সহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। কলেজের বেশ কিছু কাঁেচর জানালা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বহিরাগতদের হাতে কলেজের অধ্যক্ষসহ কয়েক শিক্ষক লাঞ্চিত হন। পরে বিক্ষুদ্ধ শতশত ছাত্র-ছাত্রী বহিরাগতদের বিচারের দাবিতে ধর্মঘর-মাধবপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। এসময় রাস্তার দুপাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় ১ঘন্টা পর স্থানীয় ইউ/পি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ সহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। খবর পেয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শাহজাহান ভূইয়ার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান ঘটনা স্থলে আসেন। অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী মিনারা বেগমকে উত্যক্ত করার অভিযোগ এনে সোমবার একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র ফরহাদ ও নানু মিয়ার বিরুদ্ধে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে বিচার দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই মিনারা বেগমের বিরুদ্ধে নানা অঙ্গভঙ্গি করে ছাত্রদেরকে গালাগালি করার অভিযোগ এনে একাদশ শ্রেনীর কয়েক ছাত্র অধ্যক্ষের কাছে বিচার দেয়। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে অধ্যক্ষের রুমে বিচার হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে মিনারার ভাই আব্দুল হান্নান, আব্দুল হাই সহ ৬/৭ জন মটর সাইকেল যোগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে ক্লাস রুম থেকে ফরহাদ ও নান্নুকে বের করে মারধোর করতে থাকে। এক পর্যায়ে কলেজের ছাত্র ও শিক্ষকরা তাদের বাচাতে এগিয়ে আসলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে ছাত্র অবিভাবক সহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ইমাম হোসেন (২৭) আব্দুল হান্নান (২০) আব্দুল হাই (২৮) কলেজ ছাত্র ফরহাদ (১৮) শরিফ (১৮) নানু মিয়া (১৮) ঝন্টু দেবনাথ (১৮) আব্দুল কাদির (৪২) ফারুক শাহ (৪০) আব্দুল কাদির (৩০) বি-বাড়ীয়া ও মাধবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় বহিরাগতরা কলেজের কাচের জানালা ভাংচুর করে। পরে বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা ধর্মঘর মাধবপুর রাস্তা বিক্ষুদ্ধ শতশত ছাত্র-ছাত্রীর বহিরাগতদের হামলা বিচারের দাবিতে কলেজের পাশে ধর্মঘর-মাধবপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। এ সময় রাস্তার দুপাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন