পৃষ্ঠাসমূহ
আজকের পাঠক
বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১
চুনারুঘাটে আখক্ষেত থেকে জীবন্ত নবজাতক উদ্ধার ॥ শিশুটি এখন বড় হবে অন্য মায়ের কোলে
এস এম সুলতান খান, চুনারুঘাট থেকে ঃ চুনারুঘাটে আখক্ষেতে পাওয়া অজ্ঞাত পরিচয়ের জীবন্ত শিশু এখন অন্য মায়ের কোলে রয়েছে। জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার কাচুয়া গ্রামে খোয়াই নদীর পাড়ে আখ ক্ষেতে অজ্ঞাত পরিচয়ে ১দিনের একটি ফুটফুটে শিশু গত মঙ্গলবার কে বা কারা আখক্ষেতে রেখে চলে যায়। আজ শিশুটির বয়স তিন দিন। উল্লেখ্য, কাচুয়া গ্রামের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ভোরে আখ ক্ষেতে আখ খাওয়ার জন্য গেলে শিশুটির কান্না শুনতে পেয়ে তারা এগিয়ে গেলে বাজারের ব্যাগে রাখা বাচ্চা শিশুটিকে দেখতে পায়। খবর পেয়ে গ্রামের লোকজন জড়ো হলে তাদের মধ্যে খোয়াই নদীর পাড়ের আব্দুল ওয়াহেদের স্ত্রী সাত সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসে তার নাম রাখেন মোঃ নিরব। বিষয়টি সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলে তারা জানায়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নবীগঞ্জে অগ্নিকান্ডে এক বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু বসতঘর পুড়ে ছাই
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের বাজকাশাড়া গ্রামে এক বসত ঘরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সইদা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকান্ডে বসতঘরসহ প্রায় কয়েক লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়। গত বুধবার ভোরে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বাজকাশারা গ্রামের ওয়াছির মিয়ার শিশু পুত্র বসতঘরে কুপি বাতি জালিয়ে রেখে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাহিরে বের হয়। এসময় কুপি বাতি থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়। এতে মুহুর্তেই সাড়া ঘরে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। এতে ঐ ঘরে থাকা বৃদ্ধা মহিলা ওয়াছির মিয়ার মাতা ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আগুনে সমস্ত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রতিবেশিরা চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি।
মায়া
=এম এ মজিদ= কেইস স্টাডি-১ ঃ বাবার মৃত্যুর পর শেফা আক্তারের ঠাই হয়েছিল নানীর কাছে। মা অন্য যুবকের হাত ধরে পালিয়ে গেলে এক অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় কিশোরী শেফাকে। আর্থিক অনটনের কারণে নানীর কাছেও শেফা ছিল অতিরিক্ত বোঝা। নানীর সাথে ইট ভাঙ্গার কাজ করতে গিয়ে শেফার সাথে পরিচয় হয় আল আমিনের। কিছুদিন প্রেম, তারপর বিয়ে। নানীর মনেও শান্তি। বাঁচা গেল। বিয়ের পর আল আমিনের প্রকৃতরুপ ফুটে উঠে। কথায় কথায় নির্যাতন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। না খাইয়ে দিনের পর দিন ফেলে রাখা, এভাবেই চলল শেফার জীবন। প্রকৃতি জানান দেয় শেফার বাচ্চা হবে। একটি সুন্দর মুখ নাড়ী ছেড়া ধন দেখার আশায় শত কষ্ট সহ্য করেও পড়ে থাকে শেফা। মা দিব্বি আরামে আছে নতুন ¯^vgxi সাথে। মেয়ে শেফার খোজ নেবার এতোটুকু সময় নেই তার। নানীও হাফ ছেড়ে বাঁচল শেফাকে এক প্রকারে তাড়িয়ে দিতে পেরে। কিন্তু শেফা কী ভাল আছে? এর খোজ নেবার প্রয়োজনবোধ করেনি কেউ। একটা সময় শেফার কোলে জন্ম নিল এক শিশু। আনন্দের সাথে শেফার কষ্ট আরও বেড়ে যায়। নিজে না হয় না খেয়ে থাকল, বাচ্চাটাকে খাওয়াবে কী? এমন দুঃশ্চিন্তায় শুকিয়ে কাঠ হতে লাগল শেফা। ¯^vgx আল-আমিনও অন্য মেয়ের পালায় পড়ে শেফাকে ভুলতে বসেছে। স্ত্রীতো নয় ই সন্তানেরও খোজ নিতে আগ্রহী নয় আল আমিন। উপরুন্তু যৌতুকের দাবীতে অটল আল আমিন। অতিষ্ট হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে আসছে শেফা। কিন্তু আইন যে শেফাদের জন্য না। সেটা বুঝতেও শেফার সময় লেগেছে মামলা দায়েরের ১ বছর পর। যৌতুক মামলায় কত আসামী জেলে যায় কিন্তু শেফার আসামী জামিন পায়। শেফার আশা ছিল জেলের ভয়েও যদি ¯^vgx ব্যাচারাটা নিজের হয়, সন্তানের হয়। ব্যর্থতা যখন চতুর্দিক ধেয়ে আসছে তখন নিজ থেকেই ¯^vgxi সাথে আপোষ করার প্রস্তাব শেফার। এরই মাঝে যৌতুক মামলায় সর্বশেষ কী হতে পারে সে সম্পর্কে জেনে গেছে আল আমিন। আল আমিন বেকে বসে। আপোষও করতে রাজি নয়। মুরুব্বীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হল ৬ মাসের শিশু সন্তানটিকে আল আমিনের কাছে দিয়ে দিতে হবে আর শেফাকে আল আমিনের জীবন থেকে চলে যেতে হবে। হঠাৎ দেখা গেল শেফার চোখের কোনে পানি। সেই পানির স্রোত দীর্ঘ হচ্ছে। এক সময় বাধ ভাঙ্গা জোয়ার। কেদে কেদে শেফার আর্তনাদ-যে ছেলেটা একবারের জন্যও নিজের শিশু সন্তানকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি সে ছেলেটা ৬ মাসের সন্তানকে লালন পালন করবে কীভাবে? এমন অবাস্তব প্রস্তাবে শেফা হতবাক কিন্তু দারিদ্র যে তাকে আষ্টেপৃষ্টে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। একদিকে ৬ মাস বয়সী আত্বজার মায়া অন্যদিকে নিজের জীবন চাকা চালানোর চিন্তা। কী করবে শেফা? কেইস স্টাডি-২ ঃ রোহেনা আক্তারের বয়স ১২। সদ্য কিশোরী। মামা বাবার আদরের সন্তান। বাধ ভাঙ্গা উতাল পাতাল মন। পাশের বাড়ির হাদিস মিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। প্রেমের তালিম পেতে না পেতেই সর্বনাশা হয়ে যায় রোহেনা আক্তারের। হাদিস মিয়া বিবাহিত। কিন্তু কোনো কিছুই মানতে রাজী নয় রোহেনা আক্তার। মা বাবার বাধাকে আমলে না নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। বিয়েও করে! রোহেনা আক্তারের দাবী এক হুজুর তাদের বিয়ে পড়িয়েছেন। ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে! আবার বিয়ে পড়িয়েছেন একজন হুজুর! রোহেনা আক্তারের পিতা বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষনের অভিযোগে মামলা দায়ের করলেন। পুলিশ রোহেনাকে উদ্ধার করে এবং হাদিস মিয়াকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে হাদিস মিয়া জেল হাজতে। কিন্তু বাবার বাড়িতে আসার পরই রোহেনা আবারও চলে যায় হাদিস মিয়ার বাড়িতে। সেখানে বসবাস করে শাশুড়ী!র সাথে। এবার রোহেনা আক্তারের মা বাদী হয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ১০০ ধারায় মেয়েকে উদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করলেন। আজ থেকে ১২ বছর পূর্বে যে সুন্দর মুখটি দেখার জন্য পাগল ছিলেন সেই মেয়েটিকে অন্যের ঘর থেকে নিজের ঘরে নিয়ে আসার জন্য এ মামলা। আদালত চার্জ ওয়ারেন্ট ইস্যু করলেন। মামলার সংবাদ শুনে শাশুড়ীর সাথে রোহেনা আক্তার আদালতে হাজির। রোহেনা আক্তার যেতে চায় শাশুড়ীর সাথে। কিন্তু বয়স বড় বেশি বাধা হয়ে দাড়াল। ১২ বছরের মেয়ের ইচ্ছা অনিচ্ছা যে আইনের দৃষ্টিতে কিছুই না। রোহেনা আক্তার যদি মা বাবার কাছে যেতে না চায় তাহলে যে তাকে যেতে হবে সেইফ কাষ্টডিতে (জেলে)। জেলে থাকতে হবে ১২ বছরের কিশোরীকে ৪/৫ বছর। এসব কথা খুব গুছিয়ে বললেন ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব। কোনো কথায়ই রোহেনা বুঝে না। রোহেনার সাফ কথা ৪/৫ বছর জেলে থাকলেও তার কোনো সমস্যা হবে না, তবুও সে জেলে যেতে চায়, ¯^vgx হাদিস মিয়াকে পেতে চায়। রোহেনা আক্তারের মা বাবার কান্নায় আকাশ ভাড়ি হয়ে উঠে। কিন্তু মন গলে না রোহেনা আক্তারের। বোঝার জন্য ২৪ ঘন্টা সময় দেয়া হল রোহেনাকে। পরদিন আবারো কোর্টে হাজির রোহেনা। আইনের কোনো বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রেরণ করা হল জেলে। বর্তমানে রোহেনা জেল হাজতে। একদিকে ৬মাস বয়সী সন্তানের মায়ায় শেফা আক্তারের চোখের পানি অন্যদিকে ১২ বছর বয়সী মেয়ে রোহেনা আক্তার জন্মদাতা পিতা মাতাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে প্রেমিক পুরুষের মায়ায় কারাবরণ। পেশাগত কারণে দু’টি ঘটনার সাথেই আমি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মিমাংসার সকল উদ্যোগও একেকজনের ভিন্নধর্মী মায়ার কাছে ভেস্তে যায়। শেফা আক্তার ও রোহেনার জন্য নিজের অজান্তেই চোখের কোনে পানি জমে যায়। তাহলে এটাও কি এক ধরনের মায়া?
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)

