মোঃ আলমগীর মিয়া, নবীগঞ্জ থেকে ঃ নবীগঞ্জের কুশিয়ারার তীরবর্তী দীঘলবাক ইউনিয়নের কসবা গ্রামে বর্বরোচিত ট্রাজেডির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত কথিত পঞ্চায়েত পক্ষের ৫ ব্যাক্তি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। ঘটনার আগের দিন শুক্রবার রাতে পঞ্চায়েত পক্ষের নেতা লুৎফুর ও ফারুক মিয়াসহ ৫ জন এবং অপরপক্ষের শামীম আহমেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার সংগঠিত ঘটনার দুই দিন পর সোমবার আলোচিত দুই নায়ক লুৎফুর ও ফারুক মিয়াসহ ৫জনকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। তবে আক্রান্ত পক্ষের শামীম আহমেদ জেল হাজতে রয়েছেন। নারকীয় ঘটনার অন্যতম দুই নায়ক জামিনে আসায় নির্যাতিত পরিবারগুলোর তরফ থেকে আবারো হামলার আশংকা ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক মিটার ভাংচুর করায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অন্ধকারে রয়েছে শতাধিক পরিবার। বৃদ্ধ মহিলারা অনাহার আর অন্ধকারে দিনাতিপাত করছে। গৃহে চুলোয় আগুন দেয়ার কোন উপকরণ নেই। নিকট আত্বীয়রা খাবার সরবরাহ করছে। থানায় পৃথক দুটি মামলা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার সংঘর্ষ, হামলা, নির্যাতন, লুটপাট ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় গ্রামে উদ্ধেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। পিনপতন নীরবতায় গ্রামটি যেন মৃতপুরী। সাবেক †g¤^vi পর্তাব উলার স্ত্রী ছামিরুন বেগম জানান, যে কোন সময় আবারও হামলা হতে পারে। তাই ভয়ে প্রত্যেক বাড়ির যুবতী মেয়েদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। উভয় পক্ষই হামলা-পাল্টা হামলার আশংকায় রয়েছেন। ভাংচুরের সময় ছাত্র-ছাত্রীদের বইপত্র ছিঁড়ে ফেলায় চলতি জেএসসি পরীক্ষার্থী, আসন্ন সমাপনী ও এসএসসি পরীক্ষাথীদের অংশ গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফজলুল হক মনির দু’মেয়ে চুমকী ও নিবা স্থানীয় নাদামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আসবাবপত্র ভাংচুরের সময় তাদের বইপত্র ও নোট খাতা ছিড়ে ফেলা হয়। জেএসসি পরীক্ষার্থী পাপিয়া এখন গ্রাম ছাড়া। কসবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ রঞ্জন দাশ জানান, আসন্ন সমাপনী পরীক্ষার্থী মেধাবী দু’ছাত্রী রাবেয়া বেগম ও মিলা আক্তার বিদ্যালয়ে আসছে না। বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ৪০ ভাগের নীচে। স্পর্সকাতর স্থাপনা এশিয়ার বৃহত্তম গ্যাস কুপ বিবিয়ানার জনপদে শান্তি-শৃংখলা রক্ষায় কসবা গ্রামে র্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন