শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১১

৪।পাঠকের চিঠি== স্মৃতিতে দেওয়ান ফরিদ গাজী


=এম বাছিত=
আজ শনিবার। বর্ষিয়ান জননেতা আলহাজ্ব দেওয়ান ফরিদগাজীর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী। যিনি ছিলেন মাতৃভাষার আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের অকতোভয় সৈনিক। দেশপ্রেমিক,মুক্তিকামী ¯^vaxbZv সংগ্রামের এক মহান নায়ক। ছিলেন জনদরদী,গরীব,দুখী,মেহনতি মানুষের অনুপ্রেরণা। সমাজ সচেতন,বাঙ্গালী চেতনার সিপাহশালার,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম সহচর। জীবন-সংগ্রামে নিবেদিত প্রয়াত দেওয়ান ফরিদগাজী ১৯২৬ সালের এপ্রিল হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় দিনারপুর পরগণার দেবপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মুক্তি চেতনার মহা নায়ক,গণ মানুষের মজলুম নেতা। জন নন্দিত প্রিয়ভাজন। ২০১০ সালের ১৯ b‡f¤^i চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকার স্কায়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। ৮৫ বছর বয়সে (মতান্তরে ৯০) ইহকাল ত্যাগ করেন ওই নেতা। সিলেট হয়ে পড়ে নেতৃত্ব শূণ্য। জাতি হারায় গর্বিত সন্তান, আস্থা আর নির্ভরতার প্রতীক। পিনপতন নিরবতায় শোকাহত হয় লাখো কোটি মানুষ। রাষ্ট্রপতি জিল­ুর রহমান ¯^n‡¯— লিখেছেন-জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বন্ধু দেওয়ান ফরিদগাজীর মৃত্যু,সমস্ত জাতির জন্য এক অপূরনীয় ক্ষতি। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু যাকে মাল্যভূষিত করেন। জাতির এক অপার সংকটে বিদায় নেন দেওয়ান ফরিদগাজী। যিনি ছিলেন,গণমানুষের নেতা। ছিলেন সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির আদর্শ পাঠশালা। প্রয়াত ওই নেতা সিলেটের আর এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি,এমসি কলেজে এইচ এসসি,মদন মোহন কলেজ থেকে বি.এ.পাস করেন। যৌবনের সূচনা থেকেই রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক সেবামূলক কর্মকান্ডে সক্রিয় ছিলেন। সাংবাদিকতার পেশায় তার অনবদ্য অবদান রয়েছে। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ পর্যন্ত সিলেটের প্রাচীণ ঐতিহাসিক ’সাপ্তাহিক যুগভেরী”পত্রিকারর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৪২ সালে ”কুইট ইন্ডিয়া” আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার উত্থান শুরু হয়। রাজনৈতিক জীবনের সূচনাতে আসাম প্রদেশের মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৫ সালে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আন্দোলন,সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৭ সালে গণভোট,১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন,১৯৭৯ সালে আইয়ুব বিরোধী গণ-অভ্যুত্থান,১৯৭১ সালে ¯^vaxbZv সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ,১৯৯০ সালে ˆ¯^ivPvi বিরোধী আন্দোলন,১৯৯৪ সালে সিলেট বিভাগ আন্দোলন এবং ১৯৯৫ সালে গণআন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রাণ পুরুষ। ১৯৬৪ সালে জন প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিকশিত হন। সিলেট পৌর এলাকার তোফখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিলেট পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সহায়তায় ব্যারিষ্টার নিয়োগ করে আইনী প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের নং সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা ছিলেন। এতে ক্ষোব্ধ তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট এহিয়া খান দেশ দ্রোহিতার অভিযোগে তাকে ১৪ বছরের জেল এবং সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। তিনিই প্রথম ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ সিলেট ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় থেকে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৭১ সালের ১৬ wW‡m¤^i ¯^vaxbZv অর্জনের পর ১৭ wW‡m¤^i সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামীলীগের অন্যতম সংগঠক ছিলেন দেওয়ান ফরিদগাজী। জীবন সায়াহ্নে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হিসেবে নিয়োজিত থাকাবস্থায় ইন্তেকাল করেন। আওয়ামীলীগই তার প্রথম এবং শেষ পরিচিতি। জাতীয় রাজনীতিতে প্রথমে তিনি সিলেটের লাকি আসন খ্যাত সদর-১ থেকে জাতীয় পরিষদ সদস্য ( এম.এন.এ) নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশের মহান সংবিধানের প্রথম হস্ত লিখিত ¯^v¶iKvix‡`i একজন। ১৯৭৩ সালে প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের স্থানীয় সরকার সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে হবিগঞ্জ-(নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে শিল্পমন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে প্রাথমিক গণ শিক্ষামন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন প্রবীণ অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ,বীর মুক্তিযুদ্ধা,দেশ প্রেমিক নাগরিককে হারায়। যে মানুষটি জনতার সেবায় গর্ববোধ করতেন। তিনি মানুষকে ভালবাসতেন। যার কাছে দলীয় পরিচয় ছিল গৌণ। ঢাকা কিংবা সিলেটের বাসায় ¯^v¶vr প্রার্থীদের না খেয়ে যাওয়া ছিল দুস্কর। তিনি ছিলেন অতিথি আপ্যায়নে তৃপ্ত এক মানুষ। চাচা নামে ছিলেন সর্বাধিক পরিচিত। বয়স্কদের নিকট ছিলেন শ্রদ্ধেয় ”গাজী সাব”। তিনি ছিলেন সিলেটবাসীর গর্বিত নেতা। ধ্যান এবং জ্ঞানের পূর্ণতায় fv¯^i| তার কর্মময় জীবনের বর্ণিল স্মৃতিতে জেগে উঠে মানুষ। দুর্দদিনে,হতাশায় খুঁজে ফিরে স্মৃতিতে। বর্ণিল জীবনের আপন পাঠশালায় তিনি বেচেঁ রয়েছেন,বেঁেচ থাকবেন। সিলেটের পবিত্র পূণ্যভূমি হযরত শাহজালাল (রহ:) এর দরগাহ শরীফের অভ্যন্তরে তাকে চির শয্যায় শায়িত করা হয়। সদালাপী, দেশ প্রেমিক,মহান ওই নেতার মাগফেরাত কামনা করছি। ছেলে আর কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই: