মোঃ সরওয়ার শিকদারও আলমগীর মিয়া, নবীগঞ্জ ঃ নবীগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লী কসবা গ্রামে আদিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর গ্রামের প্রায় শতাধিক বাড়ী ঘরে অমানবিক নির্যাতন, লুটপাট, ভাংচুর ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ গ্রামে টহল দিচ্ছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৭ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ফলে গ্রামটি এখন গ্রেফতার আতংকে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুতের শতাধিক মিটার ভাংচুর ও খুলে নেয়া হয়। পল্লী বিদ্যুতের একাধিক মিটার ভাংচুর ও খুলে নেয়া হয়। ফলে বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় কসবা গ্রামে রাতে ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গত শনিবার দিবাগত রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন কয়েকটি বাড়ীঘর আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে গতকাল রোববার সন্ধায় নবীগঞ্জ থানায় ১৫০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কসবা গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান লিপাই উল্লার পুত্র শফিকুল হক সাফু ও পরতাব উল্লাহ †g¤^v‡ii সাথে একই গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম হোসেন ও ফারুক মিয়ার বিগত ইউপি নির্বাচন থেকে বিরুধ চলে আসছিল । গত শনিবার কসবা গ্রামে বিরোধীয় দুটি গ্রুপের ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ২ শতাধিক নারী পুরুষ শিশু আহত হয়। এসময় হামলা লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয় বলে। ক্ষতি গ্রস্থ বাড়ীঘর থেকে প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাট করে। পরতাব উল্লাহ †g¤^vi তার ফিশারীতে মাছ ধরতে গেলে প্রতিপক্ষ গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক ২ লক্ষ টাকার চাঁদা দাবী করে বাধা প্রদান করে এ নিয়েই ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা সাবেক চেয়ারম্যান লিপাই উল্লার বাড়ী ও তার ভাই লন্ডন প্রবাসী কোবাদ উল্লাহ এবং আলিফর উল্লাহর বিলাশ বহুল ঘরে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে প্রায় কোটি টাকার মালামাল ভাংচুর ও লুটপাট করে । এ ছাড়া গ্রামের আরো শতাধিক ঘরে লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়। এ সব ঘর থেকে ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটপাট হয়েছে। এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন,কসবা গ্রামে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা বলেন, কসবায় নারকীয় হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আসামী ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে । তিনি আরো বলেন আমি সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করছি । সার্বক্ষনিক পুলিশ টহল দিচ্ছে । সিলেট পুলিশের ডি আই জি মকবুল হোসেন ভুইয়া বলেন, কসবা গ্রামের অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য সার্কেল এ এসপি কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। দাঙ্গাবাজ, লুটপাট ও ভাংচুরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নবীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন