শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১১

নবীগঞ্জের কুশিয়ারা ডাইকের একমাত্র সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন ॥ ১শ একর পাকা আমনধান হুমকীর মুখে


মোঃ সরওয়ার শিকদার, নবীগঞ্জ থেকে নবীগঞ্জে কুশিয়ারা ডাইকের একমাত্র সড়কটি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী পাড়ে সড়কের ভিতর প্রায় ১শ একর পাকা আমন ধান মারাত্বক হুমকীর মুখে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে কুশিয়ারা ডাইকের একটি মাত্র রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় নবীগঞ্জের সীমান্তবর্তী দীঘলবাক, জামারগাও, পাদুল্লা, দূর্গাপুর, রাধাপুর, কুমাকাদা, মোহাম্মদপুর, হুসেনপুর, মৌজপুর, পাহাড়পুর সহ ১০/১৫টি গ্রামের মানুষের চলাচলে মারাত্বক অসুবিধা হচ্ছে। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শেরপুর থেকে আসা একমাত্র রাসা্তটি আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুরের নিকট ভেঙ্গে নদীর পেটে চলে গেছে। জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীতে জোয়ার এলে কুশিয়ারার পানি উতলে যায়, তখন একমাত্র এই সড়কটি সামাল দিত। কিন্তু এখন তা ভেঙ্গে যাওয়ায় আর কোন বাঁধ রইলনা কুশিয়ারা সাথে। এখন একটু জোয়ার এলেই পানিতে সয়লাব হয়ে যাওয়ার আশংকা নবীগঞ্জবাসীর। এমনকি এর প্রভাব পড়তে পাড়ে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড এবং পাওয়ার ষ্টেশনেও। প্রতি বছর বর্ষা শুরু হলে হিংস্র কুশিয়ারা ধেয়ে আসে নবীগঞ্জের দিকে। ইতিমধ্যে কুশিয়ারা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে দীঘলবাক আউশকান্দি ইউনিয়নের মসজিদ, মাদ্রাসা, উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাট-বাজার সহ অসংখ্য স্থাপনা। এলাকার বেশিরভাগ মানুষই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। অনেকেই হয়েছেন ভূমিহীন। দীঘলবাকের নিকট নবীগঞ্জ অংশে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শত শত একর ভূমি বাড়িঘর তলিয়ে গেলেও অপর পারে জগন্নাথপুর উপজেলার অংশে বিশাল চর জেগে উঠেছে। যাদের জমি বাড়িঘর ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন তারা অনেকেই জেগে উঠা চর দখল করতে পারেননি। কুশিয়ারার ভাঙ্গনে সর্বশান্ত দীঘলবাক সহ অত্র এলাকার ২০-২৫টি গ্রামের মানুষ। নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে বিগত সরকারগুলোর আমলে একাধিক কর্মসূচি গ্রহন করা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের নামে চলেছে হরিলুট। এলাকাবাসী জানান বৃটিশ আমল থেকে কুশিয়ারার ভাঙ্গনে অত্র এলাকার হাজার পরিবার নিস্ব হলেও সরকার কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড মাফ, যোক করে কিছু বালি ভর্তি বস্তা নদীর তীরে ফেলে দিয়েই তাদের কাজ শেষ করে দেয়। ব্যাপারে ৫নং আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান দিলাওর হোসেন জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এব্যাপারে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৪নং দীগলবাক ইউপি চেয়ারম্যান ছালিক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এব্যাপারে পানিউন্নয়ন বোর্ডকে লিখিত দরখাস্ত দেওয়া হবে। যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

কোন মন্তব্য নেই: