এস এম সুলতান খান, চুনারুঘাট থেকে ঃ চুনারুঘাটে কৃষি চাষাবাদ পণ্য হাতবদলের কারণে কৃষকদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে। অনুমোদিত ডিলাররা অধিক মুনাফার লোভে কৃষিপণ্য সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকদের পরিবর্তে কিছু পাইকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। এ সুযোগে অসাধু পাইকাররা এসব পণ্য এলাকার কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ বিষয়ে অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা নিরব ভূমিকায় রয়েছেন। ফলে কৃষিতে লোকসান দেখে বহু কৃষক জমি চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বাজারগুলোতে লাইসেন্স, সাইনবোর্ড ও কাগজপত্র ছাড়াই একাধিক কৃষি চাষাবাদ পণ্যের দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানে অতিরিক্ত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার, বীজ ও কীটনাশক বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকে ভেজাল পণ্যও বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই দোকানির অনেকেরই কৃষি চাষাবাদ পণ্য বিক্রির কোন লিখিত অনুমতি নেই। তারা অনুমোদিত ডিলারদের পাইকার মাত্র। কিন্তু তারা বিএডিসির বীজও বিক্রি করছে। ১০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা বীজ সরকার ঘোষিত ৩৬০ টাকা বিক্রি করার কথা থাকলেও তারা কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন ৪২০ থেকে ৫০০ টাকায়। কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলায় বিএডিসির অনুমোদিত ১৫ জন ডিলার রয়েছে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পুরো উপজেলায় ৪শ টন বীজের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বিএডিসি দিচ্ছে শুধু ২শ টন। বাকি বীজ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে বীজ সঙ্কট রয়েছে। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সব ধরণের কৃষি পণ্যের দাম চড়া। ডিলারদের পরিবর্তে চড়া দামে পাইকারদের কাছ থেকে সার, বীজ ও কীটনাশক কিনতে হচ্ছে। ন্যায্যমূল্যে ডিলারদের কাছে বীজ ও সার পাওয়া যায় না। উবাহাটা ইউনিয়নের কৃষক জবেদ মিয়াসহ অনেকে জানান, প্রত্যেক ডিলারের কিছু পাইকার ব্যবসায়ী আছে। ডিলাররা মালামাল উত্তোলন করে কৃষকদের পরিবর্তে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেয়। পাইকাররা বেশি দামে এসব আবার কৃষকদের কাছে বিক্রি করে থাকে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, বীজ, সার ও কীটনাশক কৃষকদের পরিবর্তে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন